সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বর্তমানে রাতে মশা দিনে মাছির মতোই সকলের রোগ-জ্বর-জ্বালা একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।এককথায় বলা যায় যে,এই অসুখ-বিসুখ জীবনের একটি অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছি।এবং এই অসুখ বিসুখ এর প্রতিরোধ নিয়ে মানুষের হাহাকার বুঝতে পারবে না কেও,যদি না সরকারি হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজগুলিতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকে।লাইন দিয়ে টিকিট কেটে লাইন দিয়ে ডাক্তার দেখাতে মানুষ সত্যিই বিপর্যস্ত।ফ্রি পরিষেবা পেতে গেলে একটু কষ্ট তো করতেই হবে।


তবে আধুনিক সভ্যতার প্রযুক্তি সর্বত্রই বিরাজমান।সাম্প্রতিক করোনা মহামারীর সময় থেকে সরকারি উদ্যোগে একটি অনলাইন পোর্টাল চালু হয়েছে,যেখানে সমস্ত জেলা সদর ও মেডিকেল কলেজ গুলিতে আগে থেকেই অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে,এবং হাসপাতালে এসে আর লাইন দিয়ে টিকিট কাটতে হবে না।শুধুমাত্র ওই অনলাইনে টিকিটটি প্রিন্ট আউট করে নিয়ে এসে ডাক্তার দেখানোর কাছে এন্ট্রি ও স্ট্যাম্প করে নিয়েই সরাসরি ডাক্তার দেখানো যাবে।এতে মানুষের অর্ধেক সময় এবং শ্রম দুই বাঁচবে।
আমি সাম্প্রতিক নিজেই এই পদ্ধতিতে ৪-৫ বার ডাক্তার দেখিয়েছি।এবং অনেক পরিচিতের টিকিট করার এই পদ্ধতি বলে দিয়েছি।এতে তারাও অনেকটাই উপকৃত হয়েছেন।তাই সকল বন্ধু দের উদ্দেশ্যে এই বার্তা ও পদ্ধতি শেয়ার করে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।যাতে মানুষের কিছুটা হলেও উপকার হয়,হ্যারাসমেন্ট কম হয়।কেননা অজানা মানুষ টিকিটের লাইন খুঁজতে খুজতেই ১-২ ঘন্টা সময় নষ্ট করে ফেলে।তারপর লাইনদিয়ে টিকিট কাটতে আরও ২-৩ ঘন্টা।তারপর ডাক্তার দেখাতে তো কমপক্ষে ৪-৫ ঘন্টা।সুতরাং ডাক্তারের কাছে পোঁছতেই ৭-৮ ঘন্টা সময় রোগীর পরিজন নষ্ট করে ফেলে।তাই আমরা দেখি কলকাতার মেডিকেল কলেজগুলিতে ডাক্তার দেখানোর জন্য সাধারণ মানুষ গ্রাম গঞ্জ থেকে অর্ধেক রাতে উঠে এসে ভোর ৪ টে থেকে লাইন দিয়ে ডাক্তার দেখায়।


এই জন্য যাতে মানুষের ৩-৪ ঘন্টা সময় বাঁচে এবং ন্যুনতম হলেও সুবিধা হয় তার জন্য এই লিঙ্কটি শেয়ার করলাম।লিঙ্কটি ক্লিক করে একটি মোবাইল সাথে রাখবেন,এবং মোবাইল নম্বরটি ইনপুট করবেন।এরপর মোবাইল নম্বরটিতে একটি OTP আসবে সেই OTP টি ইনপুট করলেই ফর্মটি চলে আসবে।এরপর যেদিন ডাক্তার দেখাবেন সেই তারিখ,নাম,ঠিকানা সহ কোন হসপিটাল বা মেডিকেল কলেজে কোন বিভাগের ডাক্তার দেখাবেন সঠিক ভাবে সঠিক তথ্য দিয়ে অনলাইন ফর্মটি ফিলাপ করে সাবমিট করুন।এরপর ফর্মটি একটি পিডিএফ এ জেনারেট হয়ে যাবে এবং প্রিন্ট আউট করিয়ে নেবেন।

★ হসপিটাল টিকিট কাটার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক 👇👇👇👇👇👇👉👉👉👉👉👉👉👉👉👉👉👇https://onlinehmis.wbhealth.gov.in/OPDNewPatientReport.aspx
ধন্যবাদ,ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভারতবর্ষে পর্তুগীজ আগমনের ইতিবৃত্তঃ- একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

প্রাচীনকাল থেকেই বৃহত্তর বঙ্গদেশ( বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ) ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের এক অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। বাঙলার ক্ষেতের অফুরন্ত ফসল এবং তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড়,ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধনসম্পদের লোভে যুগ যুগ ধরে দেশ-বিদেশের বণিকরা ছুটে এসেছে এই দেশে।ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপীয় বণিকদের আনাগোনা শুরু হয় এই বাঙলায়। ইউরোপীয়দের মধ্যে সমুদ্রপথে পর্তুগিজরাই প্রথম বাঙলায়, তথা ভারতীয় উপমহাদেশে এসে পৌঁছায় ও বাংলাসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে। মুঘল সম্রাট আকবরের অনুমতিবলে হুগলীতে তারা পর্তুগিজ বন্দর-নগরী পত্তন করেছিল। সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে হুগলী ছিল বাঙলার অন্যতম প্রধান এক নগরী।তবে এখানে এসে তারা পরবর্তীসময়ে হার্মাদগিরি করার ফলে সম্রাট শাহজাহান সহ পরবর্তী সম্রাটদের বিরাগভাজনের কারন হন তারা।এসব বিভিন্ন কারণে সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে পর্তুগিজরা হুগলী ছেড়ে চলে যেতে শুরু করলে সেই স্থান দখল করে ইংরেজ ও ওলন্দাজরা । কিন্তু এখনো একটু খোঁজ করলেই হুগলীর পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায় – হয়ত কোন একটা এলাকার নাম, অথবা কোন একটা...

"জয়নগরের মোয়া-উপাখ্যান"

শীতকাল এলেই বাঙালীর যেটা সবার আগে মাথায় আসে তা হল নলিনগুড়,পিঠেপুলি,আর জয়নগরের মোয়া।এগুলো ছাড়া চলবেই না।আমরা সকলেই এইসব বিভিন্ন খাদ্যের সাথে পরিচিত।আজ এরকমই এক সুস্বাদু মিষ্টান্ন "জয়নগরের মোয়া" -র ইতিবৃত্ত তুলে ধরছি আমার ছোট্ট প্রবন্ধ-পটে।ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। ইতিহাসের সাথে ভূগোলের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।ভূগোল ছাড়া ইতিহাস সম্ভব নয়,সুতরাং ভৌগলিক দিক থেকে জয়নগর মজিলপুর হলো দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ছোট্ট একটা গ্রাম। প্রায় পাঁচশো বছর আগে আদি-গঙ্গা এইখান দিয়ে বয়ে বয়ে মিশে গিয়েছিলো বঙ্গোপসাগরে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর শিষ্যদেরকে নিয়ে নীলাচলে যাবার সময় এখানে থেমে ছিলেন। সাংস্কৃতিক আবহাওয়ায় পরিপুষ্ট এই অঞ্চলটিকে অনেকেই পশ্চিম বাংলার 'দ্বিতীয় নবদ্বীপ' বলেও অভিহিত করে থাকেন। মোটামুটিভাবে ধরা হয়,১৯২৯ সাল নাগাদ এই অঞ্চলের প্রসিদ্ধ দুই ব্যক্তি নৃত্যগোপাল সরকার (বুচকি বাবু) এবং পূর্ণচন্দ্র ঘোষ, দু'জনে মিলে সর্বপ্রথম 'মোয়া' নামক লোভনীয় মিষ্টান্নটির জন্ম দেন। তারপর সেই মোয়ার সুস্বাদ, সুঘ্রাণ আর গুণ ক্রমে ক্রমে সারা পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই, এ...

"কালাপাহাড়"- ইতিহাসে একজন ধ্বংসকারী হিসাবে পরিচিত

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গল্পে একটি বিধ্বংসী মোষের নাম দিয়েছিলেন কালাপাহাড়। কে জানে কেন এমন নামকরণ! মোষ সে কালো, সে ভেঙেচুরে ফেলে—তাতে কালো হতে পারে। কিন্তু কালা তো বধির—যে কানে শুনতে পায় না। তাহলে যার কানে ভালো কথা প্রবেশ করে না—সে-ই ‘কালা’। কখনও কখনও পাহাড় কালো রঙের হয়, বিশাল চেহারার কাউকে আমরা পাহাড়ের সঙ্গে তুলনাও করে থাকি। বিরাট আকারের কালো রঙের মহিষ—কালাপাহাড়? কিন্তু এই কথাটা মনে এলেই মনে পড়ে এটা একজন বিরাট চেহারার দস্যু— যে ধর্ম মানে না— ধর্মস্থান গুঁড়িয়ে ফেলে লুঠতরাজ চালায় আর বড্ড গোঁয়ার গোবিন্দ। পাষাণের মতোই তার কঠিন মন— কারও কথায় কান দেয় না।একজায়গায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন এমন লোকের কথা ভেবেই—‘পিতামহের কীর্তির প্রতি কালাপাহাড়ি করা।’ তাহলে বোঝাই যাচ্ছে যে,লোকটা মোটেই সুবিধের ছিল না— সব কিছু ভেঙেচুরে নষ্ট করে ফেলাতেই যার প্রবল আনন্দ।তবে এর পিছনেও নির্দিষ্ট কারণ ছিল,ছিল হিন্দুধর্মের গোঁড়ামি,রক্ষণশীলতা,অস্পৃশ্যতা। তবে পরিচয়য়ের দিকে যাওয়া যাক এবার। কালাপাহাড় (১৫৩৪-১৫৮০ ) ছিলেন কররানী রাজবংশর এক দুর্ধর্ষ সেনাপতি। তার বাড়ি ছিল অধুনা বাংল...