"সমাস" মনে রাখার শর্টকার্ট কিছু নিয়মঃ- আশাকরি ছাত্র-ছাত্রীদের কাজে লাগবে।
1) দ্বন্দ্ব_সমাস : এবং,ও,আর (৩টি অব্যয়) থাকলে দ্বন্দ্ব সমাস।
2) অলুক_দ্বন্দ্ব :ব্যাসবাক্যে ে ও ো থাকলে অলুক দ্বন্দ্ব।
3) দ্বিগু_সমাস : ব্যসবাক্যে “সমাহার” থাকলে দ্বিগু সমাস।
4) নঞ_তৎপুরুষ : শুরুতে "ন" থাকলে নঞ তৎপুরুষ।
5) উপপদ_তৎপুরুষ : শেষে ” যা” থাকলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
6)অলুক_তৎপুরুষ : পরিবর্তন না হলে অলুক তৎপুরুষ।
7) কর্মধারয়_সমাস :ব্যসবাক্যের মাঝে “যে” থাকলে কর্মধারয় সমাস।
8) মধ্যপদলোপী__কর্মধারয় : মাঝে বিভক্তি লোপ পেলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
9) উপমান_কর্মধারয় : মাঝে “ন্যায়” থাকলে উপমান কর্মধারয় সমাস।
10) উপমিত_কর্মধারয় : শেষে ন্যায়” থাকলে উপমিত কর্মধারয় সমাস।
11) রুপক_কর্মধারয় : মাঝে “রুপ” থাকলে রুপক কর্মধারয়।
12) বহুব্রীহি_সমাস : শেষে “যার” বা "যাহার" থাকলে বহুব্রীহি সমাস।
13) ব্যতিহার_বহুব্রীহি : হাতাহাতি, কানাকানি ইত্যাদি ব্যাবহার হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি।
14) অব্যয়ীভাব_সমাস : পর্যন্ত, অভাব, সমীপে, অতিক্রম, গমন,সদৃশ ইত্যাদি থাকলে অব্যয়ীভাব সমাস।
15) প্রাদি_সমাস : প্র, পরা, প্রতি, অনু থাকলে প্রাদি সমাস।
16) নিত্য_সমাস : “অন্য” দিয়ে সমাস হলে নিত্য সমাস হয়।
★★বাংলা ভাষায় মূল সমাস প্রধানত ৬ প্রকার।যথা-
১) দ্বন্দ্ব সমাস।
২) দিগু সমাস।
৩) কর্মধারয় সমাস।
৪) বহুব্রীহি সমাস।
৫) অব্যয়ীভাব সমাস।
৬) তৎপুরুষ সমাস।
★একটি সহজ কবিতার ছন্দের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রী রা সমাস মনে রাখবে। যথা-
”ও-এবং-আর মিলে যদি হয় “দ্বন্দ্ব”,
সমাহারে “দ্বিগু” হলে নয় সেটা মন্দ।।
যে-যিনি-যেটি-যেটা- তিনি “কর্মধারয়”,
যে-যার শেষে থাকলে তারে “বহুব্রীহি” কয়।।
অব্যয়ের অর্থ প্রাধান্য পেলে “অব্যয়ী” মেলে,
বিভক্তি লোপ পেলে”তৎপুরুষ” তাকে বলে।।"
★★কিছু ব্যাসবাক্য সহ সমাস নির্নয় করে দেওয়া হলো।এগুলো মুখস্থ করে নিও ছাত্র-ছাত্রীরা।
★★দ্বন্দ্ব সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
মরাবাঁচা —মরা ও বাঁচা — দ্বন্দ্ব
সৈন্য সামন্ত —সৈন্য ও সামন্ত — দ্বন্দ্ব
রক্তমাংস — রক্ত ও মাংস — দ্বন্দ্ব
ভরণপোষণ —ভোরণ ও পোষণকারী —দ্বন্দ্ব
জনমানব —জন ও মানব — দ্বন্দ্ব
সাত সতের —সাত ও সতের — দ্বন্দ্ব
দুধভাত —দুধ ও ভাত — দ্বন্দ্ব
সাপে–নেউলে —সাপে ও নেউলে — দ্বন্দ্ব
দম্পতি —জায়া ও পতি — দ্বন্দ্ব
লেনদেন —লেন ও দেন — দ্বন্দ্ব
হিতাহিত —হিত ও অহিত — দ্বন্দ্ব
অত্যাচারঅবিচার —অত্যাচার ও অবিচার।
★অলুক দ্বন্দ্ব সমাসঃ-
★প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
হাতে পায়ে —হাতে ও পায়ে — অলুক দ্বন্দ্ব
দুধেভাতে —দুধে ও ভাতে — অলুক দ্বন্দ্ব
বনেবাদারে —বনে ওবাদারে — অলুক দ্বন্দ্ব
জন্ম মৃত্যু —জন্ম ও মৃত্যু — অলুক দ্বন্দ্ব।
★মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
সিংহাসন —সিংহ চিহ্নিত আসন — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
হাঁটুজল — হাঁটু পরিমান জল — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
পানাপুকুর — পানা ভরা পুকুর — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
বিরানব্বই — নব্বই অধিক দুই — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
শিক্ষামন্ত্রী — শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী —
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
পলান্ন — পল মিশ্রিত অন্ন — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
মমতারস — মমতা মিশ্রিত রস — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
ধর্মঘট — ধর্ম রক্ষার্থে ঘট — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
আয়কর — আয়ের উপর কর — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
সন্ধ্যা প্রদীপ — সন্ধ্যা কাল জ্বালানো প্রদীপ
— মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
জয় পতাকা — জয় সূচক পতাকা — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
জ্যোৎস্নারাত — জ্যোৎস্না শোভিত রাত —
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ডাকবাক্স — ডাক ফেলার বাক্স — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়।
★উপমান কর্মধারয় সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
প্রদত্ত শব্দ — ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
কুসুমকোমল —কুসুমের মতো কমল — উপমান
কর্মধারয়
বজ্রকন্ঠ —বজ্রের ন্যায় কন্ঠ — উপমান কর্মধারয়
শশব্যস্ত —শশকের ন্যায় ব্যস্ত — উপমান
কর্মধারয়
কচুকাটা —কচুর মতো কাটা — উপমান কর্মধারয়
কাজলকালো —- কাজলের মতো কালো —
উপমান কর্মধারয়
তুষারশীতল —তুষারের ন্যায় শীতল — উপমান
কর্মধারয়
পদ্ম আঁখি —পদ্মের ন্যায় আঁখি — উপমান
কর্মধারয়
বাহুলতা —বাহু লতার ন্যায় — উপমান কর্মধারয়
চাঁদমুখ —চাঁদের ন্যায় মুখ — উপমান কর্মধারয়
রক্তকোমল —রক্তের ন্যায় কোমল — উপমান
কর্মধারয়।
★উপমিত কর্মধারয় সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
ফুলকুমারী —কুমারী ফুলের ন্যায় — উপমিত
কর্মধারয়
মনবিহঙ্গ —মন বিহঙ্গের ন্যায় — উপমিত
কর্মধারয়
বাহুলতা —বাহু লতার ন্যায় — উপমিত কর্মধারয়
মুখচন্দ্র —মুখ চন্দ্রের ন্যায় — উপমিত কর্মধারয়
করপল্লব —কর পল্লবের ন্যায় —। উপমিত
কর্মধারয়
চরণকমল — চরণ কমলের ন্যায় — উপমিত কর্মধারয়
★রূপক কর্মধারয় সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
মোহনিদ্রা —মোহ রূপ নিদ্রা — রূপক কর্মধারয়
মনমাঝি — মন রূপ মাঝি — রূপক কর্মধারয়
যৌবনসূর্য —যৌবন রূপ সূর্য — রূপক কর্মধারয়
অলসতন্দ্রা —অলস রূপ তন্দ্রা — রূপক কর্মধারয়
জীবন নদী —জীবন রূপ নদী — রূপক কর্মধারয়
বিষাদসিন্ধু —বিষাদ রূপ সিন্ধু — রূপক কর্মধারয়
দিলদরিয়া — দিল রূপ দরিয়া — রূপক কর্মধারয়
জীবন প্রদীপ —জীবন রূপ প্রদীপ — রূপক
কর্মধারয়
পরাণ পাখি —পরাণ রূপ পাখি — রূপক কর্মধারয়
★দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
দুঃখপ্রাপ্ত — দুঃখকে প্রাপ্ত — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
মাছধরা —মাছকে ধরা — দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
আমকুড়ানো —আমকে কুড়ানো — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
চিরসুখী —চিরকাল ব্যাপী সুখি — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
দেশভঙ্গ —দেশকে ভঙ্গ — দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
নবীনবরণ — নবীনকে বরণ — দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
বিস্ময়াপন্ন —বিস্ময়কে আপন্ন — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
পৃষ্ঠপ্রদর্শন —পৃষ্ঠকে প্রদর্শন — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
অতিথিসৎকার —অতিথিকে সৎকার — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
প্রাণবোধ — প্রানকে বোধ — দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
রথচালন —রথকে চালনী — দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
★তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
প্রদত্ত শব্দ — ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
বাকবিতণ্ডা — বাক দ্বারা বিতন্ডা — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
ছায়াশীতল —ছায়া দ্বারা শীতল — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
মধুমাথা —মধু দিয়ে মাখা — তৃতীয়া তৎপুরুষ
মেঘলুপ্ত —মেঘ দ্বারা লুপ্ত — তৃতীয়া তৎপুরুষ
শ্রমলব্ধ —শ্রম দ্বারা লব্ধ — তৃতীয়া তৎপুরুষ
জনাকীর্ণ — জন দ্বারা আকীর্ণ — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
মনগড়া —মন দ্বারা গড়া — তৃতীয়া তৎপুরুষ
ঢেঁকিছাটা — ঢেকি দ্বারা ছাটা — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
জ্ঞানশূন্য —জ্ঞান দ্বারা শূন্য — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
পদদলিত —পদ দ্বারা দলিল — তৃতীয়া তৎপুরুষ
অঙ্গুলিসংকেত —অঙ্গুলি দ্বারা সংকেত —
তৃতীয়া তৎপুরুষ
ন্যায়সঙ্গত — ন্যায় দ্বারা সঙ্গত — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
জলসেচন — জল দ্বারা সেচন — তৃতীয়া তৎপুরুষ
তমসাচ্ছন্ন —তমসা দ্বারা আচ্ছন্ন — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
যুক্তিসঙ্গত — যুক্তি দ্বারা সঙ্গত — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
শোকার্ত —শোক দ্বারা আর্ত — তৃতীয়া তৎপুরুষ
রাজদত্ত —রাজা কর্তৃক দত্ত — তৃতীয়া তৎপুরুষ
★চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
বিয়েপাগল —বিয়ের জন্য পাগল — চতুর্থী
তৎপুরুষ
জয়মুকুট — জয়ের নিমিত্তে মুকুট — চতুর্থী তৎপুরুষ
তপোবন —তপের নিমিত্তে বন — চতুর্থী তৎপুরুষ
আয়কর —আয়ের উপর কর — চতুর্থী তৎপুরুষ
হজ্জ্বযাত্রা —হজ্জ্বের জন্য যাত্রা — চতুর্থী
তৎপুরুষ
জীবনবীমা —জীবনের জন্য বিমা — চতুর্থী
তৎপুরুষ।
--------------------------
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন