সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সমাস চেনার সহজ উপায়

                               ★★★সমাস★★★

"সমাস" মনে রাখার শর্টকার্ট কিছু নিয়মঃ- আশাকরি ছাত্র-ছাত্রীদের কাজে লাগবে।

1) দ্বন্দ্ব_সমাস : এবং,ও,আর (৩টি অব্যয়) থাকলে দ্বন্দ্ব সমাস।
2) অলুক_দ্বন্দ্ব :ব্যাসবাক্যে ে ও ো থাকলে অলুক দ্বন্দ্ব।
3) দ্বিগু_সমাস : ব্যসবাক্যে “সমাহার” থাকলে দ্বিগু সমাস।
4) নঞ_তৎপুরুষ : শুরুতে "ন" থাকলে নঞ তৎপুরুষ।
5) উপপদ_তৎপুরুষ : শেষে ” যা” থাকলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
6)অলুক_তৎপুরুষ : পরিবর্তন না হলে অলুক তৎপুরুষ।
7) কর্মধারয়_সমাস :ব্যসবাক্যের মাঝে “যে” থাকলে কর্মধারয় সমাস।
8) মধ্যপদলোপী__কর্মধারয় : মাঝে বিভক্তি লোপ পেলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
9) উপমান_কর্মধারয় : মাঝে “ন্যায়” থাকলে উপমান কর্মধারয় সমাস।
10) উপমিত_কর্মধারয় : শেষে ন্যায়” থাকলে উপমিত কর্মধারয় সমাস।
11) রুপক_কর্মধারয় : মাঝে “রুপ” থাকলে রুপক কর্মধারয়।
12) বহুব্রীহি_সমাস : শেষে “যার” বা "যাহার" থাকলে বহুব্রীহি সমাস।
13) ব্যতিহার_বহুব্রীহি : হাতাহাতি, কানাকানি ইত্যাদি ব্যাবহার হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি।
14) অব্যয়ীভাব_সমাস : পর্যন্ত, অভাব, সমীপে, অতিক্রম, গমন,সদৃশ ইত্যাদি থাকলে অব্যয়ীভাব সমাস।
15) প্রাদি_সমাস : প্র, পরা, প্রতি, অনু থাকলে প্রাদি সমাস।
16) নিত্য_সমাস : “অন্য” দিয়ে সমাস হলে নিত্য সমাস হয়।

★★বাংলা ভাষায় মূল সমাস প্রধানত ৬ প্রকার।যথা-
১) দ্বন্দ্ব সমাস।
২) দিগু সমাস।
৩) কর্মধারয় সমাস।
৪) বহুব্রীহি সমাস।
৫) অব্যয়ীভাব সমাস।
৬) তৎপুরুষ সমাস।

★একটি সহজ কবিতার ছন্দের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রী রা সমাস মনে রাখবে। যথা-

”ও-এবং-আর মিলে যদি হয় “দ্বন্দ্ব”,
সমাহারে “দ্বিগু” হলে নয় সেটা মন্দ।।
যে-যিনি-যেটি-যেটা- তিনি “কর্মধারয়”,
যে-যার শেষে থাকলে তারে “বহুব্রীহি” কয়।।
অব্যয়ের অর্থ প্রাধান্য পেলে “অব্যয়ী” মেলে,
বিভক্তি লোপ পেলে”তৎপুরুষ” তাকে বলে।।"

★★কিছু ব্যাসবাক্য সহ সমাস নির্নয় করে দেওয়া হলো।এগুলো মুখস্থ করে নিও ছাত্র-ছাত্রীরা।

★★দ্বন্দ্ব সমাসঃ-

প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম

মরাবাঁচা —মরা ও বাঁচা — দ্বন্দ্ব
সৈন্য সামন্ত —সৈন্য ও সামন্ত — দ্বন্দ্ব
রক্তমাংস — রক্ত ও মাংস — দ্বন্দ্ব
ভরণপোষণ —ভোরণ ও পোষণকারী —দ্বন্দ্ব
জনমানব —জন ও মানব — দ্বন্দ্ব
সাত সতের —সাত ও সতের — দ্বন্দ্ব
দুধভাত —দুধ ও ভাত — দ্বন্দ্ব
সাপে–নেউলে —সাপে ও নেউলে — দ্বন্দ্ব
দম্পতি —জায়া ও পতি — দ্বন্দ্ব
লেনদেন —লেন ও দেন — দ্বন্দ্ব
হিতাহিত —হিত ও অহিত — দ্বন্দ্ব
অত্যাচারঅবিচার —অত্যাচার ও অবিচার। 

অলুক দ্বন্দ্ব সমাসঃ-

প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম

হাতে পায়ে —হাতে ও পায়ে — অলুক দ্বন্দ্ব
দুধেভাতে —দুধে ও ভাতে — অলুক দ্বন্দ্ব
বনেবাদারে —বনে ওবাদারে — অলুক দ্বন্দ্ব
জন্ম মৃত্যু —জন্ম ও মৃত্যু — অলুক দ্বন্দ্ব।

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম

প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
সিংহাসন —সিংহ চিহ্নিত আসন — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
হাঁটুজল — হাঁটু পরিমান জল — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
পানাপুকুর — পানা ভরা পুকুর — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
বিরানব্বই — নব্বই অধিক দুই — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
শিক্ষামন্ত্রী — শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী —
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
পলান্ন — পল মিশ্রিত অন্ন — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
মমতারস — মমতা মিশ্রিত রস — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
ধর্মঘট — ধর্ম রক্ষার্থে ঘট — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
আয়কর — আয়ের উপর কর — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
সন্ধ্যা প্রদীপ — সন্ধ্যা কাল জ্বালানো প্রদীপ
— মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
জয় পতাকা — জয় সূচক পতাকা — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়
জ্যোৎস্নারাত — জ্যোৎস্না শোভিত রাত —
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ডাকবাক্স — ডাক ফেলার বাক্স — মধ্যপদলোপী
কর্মধারয়।

উপমান কর্মধারয় সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম

প্রদত্ত শব্দ — ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
কুসুমকোমল —কুসুমের মতো কমল — উপমান
কর্মধারয়
বজ্রকন্ঠ —বজ্রের ন্যায় কন্ঠ — উপমান কর্মধারয়
শশব্যস্ত —শশকের ন্যায় ব্যস্ত — উপমান
কর্মধারয়
কচুকাটা —কচুর মতো কাটা — উপমান কর্মধারয়
কাজলকালো —- কাজলের মতো কালো —
উপমান কর্মধারয়
তুষারশীতল —তুষারের ন্যায় শীতল — উপমান
কর্মধারয়
পদ্ম আঁখি —পদ্মের ন্যায় আঁখি — উপমান
কর্মধারয়
বাহুলতা —বাহু লতার ন্যায় — উপমান কর্মধারয়
চাঁদমুখ —চাঁদের ন্যায় মুখ — উপমান কর্মধারয়
রক্তকোমল —রক্তের ন্যায় কোমল — উপমান
কর্মধারয়।

উপমিত কর্মধারয় সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম

প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
ফুলকুমারী —কুমারী ফুলের ন্যায় — উপমিত
কর্মধারয়
মনবিহঙ্গ —মন বিহঙ্গের ন্যায় — উপমিত
কর্মধারয়
বাহুলতা —বাহু লতার ন্যায় — উপমিত কর্মধারয়
মুখচন্দ্র —মুখ চন্দ্রের ন্যায় — উপমিত কর্মধারয়
করপল্লব —কর পল্লবের ন্যায় —। উপমিত
কর্মধারয়
চরণকমল — চরণ কমলের ন্যায় — উপমিত কর্মধারয়

রূপক কর্মধারয় সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম

প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
মোহনিদ্রা —মোহ রূপ নিদ্রা — রূপক কর্মধারয়
মনমাঝি — মন রূপ মাঝি — রূপক কর্মধারয়
যৌবনসূর্য —যৌবন রূপ সূর্য — রূপক কর্মধারয়
অলসতন্দ্রা —অলস রূপ তন্দ্রা — রূপক কর্মধারয়
জীবন নদী —জীবন রূপ নদী — রূপক কর্মধারয়
বিষাদসিন্ধু —বিষাদ রূপ সিন্ধু — রূপক কর্মধারয়
দিলদরিয়া — দিল রূপ দরিয়া — রূপক কর্মধারয়
জীবন প্রদীপ —জীবন রূপ প্রদীপ — রূপক
কর্মধারয়
পরাণ পাখি —পরাণ রূপ পাখি — রূপক কর্মধারয়

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম

প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
দুঃখপ্রাপ্ত — দুঃখকে প্রাপ্ত — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
মাছধরা —মাছকে ধরা — দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
আমকুড়ানো —আমকে কুড়ানো — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
চিরসুখী —চিরকাল ব্যাপী সুখি — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
দেশভঙ্গ —দেশকে ভঙ্গ — দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
নবীনবরণ — নবীনকে বরণ — দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
বিস্ময়াপন্ন —বিস্ময়কে আপন্ন — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
পৃষ্ঠপ্রদর্শন —পৃষ্ঠকে প্রদর্শন — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
অতিথিসৎকার —অতিথিকে সৎকার — দ্বিতীয়া
তৎপুরুষ
প্রাণবোধ — প্রানকে বোধ — দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
রথচালন —রথকে চালনী — দ্বিতীয়া তৎপুরুষ 

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম

প্রদত্ত শব্দ — ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
বাকবিতণ্ডা — বাক দ্বারা বিতন্ডা — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
ছায়াশীতল —ছায়া দ্বারা শীতল — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
মধুমাথা —মধু দিয়ে মাখা — তৃতীয়া তৎপুরুষ
মেঘলুপ্ত —মেঘ দ্বারা লুপ্ত — তৃতীয়া তৎপুরুষ
শ্রমলব্ধ —শ্রম দ্বারা লব্ধ — তৃতীয়া তৎপুরুষ
জনাকীর্ণ — জন দ্বারা আকীর্ণ — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
মনগড়া —মন দ্বারা গড়া — তৃতীয়া তৎপুরুষ
ঢেঁকিছাটা — ঢেকি দ্বারা ছাটা — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
জ্ঞানশূন্য —জ্ঞান দ্বারা শূন্য — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
পদদলিত —পদ দ্বারা দলিল — তৃতীয়া তৎপুরুষ
অঙ্গুলিসংকেত —অঙ্গুলি দ্বারা সংকেত —
তৃতীয়া তৎপুরুষ
ন্যায়সঙ্গত — ন্যায় দ্বারা সঙ্গত — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
জলসেচন — জল দ্বারা সেচন — তৃতীয়া তৎপুরুষ
তমসাচ্ছন্ন —তমসা দ্বারা আচ্ছন্ন — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
যুক্তিসঙ্গত — যুক্তি দ্বারা সঙ্গত — তৃতীয়া
তৎপুরুষ
শোকার্ত —শোক দ্বারা আর্ত — তৃতীয়া তৎপুরুষ
রাজদত্ত —রাজা কর্তৃক দত্ত — তৃতীয়া তৎপুরুষ

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাসঃ-
প্রদত্ত শব্দ— ব্যাসবাক্য — সমাসের নাম
বিয়েপাগল —বিয়ের জন্য পাগল — চতুর্থী
তৎপুরুষ
জয়মুকুট — জয়ের নিমিত্তে মুকুট — চতুর্থী তৎপুরুষ
তপোবন —তপের নিমিত্তে বন — চতুর্থী তৎপুরুষ
আয়কর —আয়ের উপর কর — চতুর্থী তৎপুরুষ
হজ্জ্বযাত্রা —হজ্জ্বের জন্য যাত্রা — চতুর্থী
তৎপুরুষ
জীবনবীমা —জীবনের জন্য বিমা — চতুর্থী
তৎপুরুষ। 

                  --------------------------

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভারতবর্ষে পর্তুগীজ আগমনের ইতিবৃত্তঃ- একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

প্রাচীনকাল থেকেই বৃহত্তর বঙ্গদেশ( বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ) ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের এক অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। বাঙলার ক্ষেতের অফুরন্ত ফসল এবং তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড়,ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধনসম্পদের লোভে যুগ যুগ ধরে দেশ-বিদেশের বণিকরা ছুটে এসেছে এই দেশে।ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপীয় বণিকদের আনাগোনা শুরু হয় এই বাঙলায়। ইউরোপীয়দের মধ্যে সমুদ্রপথে পর্তুগিজরাই প্রথম বাঙলায়, তথা ভারতীয় উপমহাদেশে এসে পৌঁছায় ও বাংলাসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে। মুঘল সম্রাট আকবরের অনুমতিবলে হুগলীতে তারা পর্তুগিজ বন্দর-নগরী পত্তন করেছিল। সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে হুগলী ছিল বাঙলার অন্যতম প্রধান এক নগরী।তবে এখানে এসে তারা পরবর্তীসময়ে হার্মাদগিরি করার ফলে সম্রাট শাহজাহান সহ পরবর্তী সম্রাটদের বিরাগভাজনের কারন হন তারা।এসব বিভিন্ন কারণে সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে পর্তুগিজরা হুগলী ছেড়ে চলে যেতে শুরু করলে সেই স্থান দখল করে ইংরেজ ও ওলন্দাজরা । কিন্তু এখনো একটু খোঁজ করলেই হুগলীর পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায় – হয়ত কোন একটা এলাকার নাম, অথবা কোন একটা...

"জয়নগরের মোয়া-উপাখ্যান"

শীতকাল এলেই বাঙালীর যেটা সবার আগে মাথায় আসে তা হল নলিনগুড়,পিঠেপুলি,আর জয়নগরের মোয়া।এগুলো ছাড়া চলবেই না।আমরা সকলেই এইসব বিভিন্ন খাদ্যের সাথে পরিচিত।আজ এরকমই এক সুস্বাদু মিষ্টান্ন "জয়নগরের মোয়া" -র ইতিবৃত্ত তুলে ধরছি আমার ছোট্ট প্রবন্ধ-পটে।ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। ইতিহাসের সাথে ভূগোলের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।ভূগোল ছাড়া ইতিহাস সম্ভব নয়,সুতরাং ভৌগলিক দিক থেকে জয়নগর মজিলপুর হলো দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ছোট্ট একটা গ্রাম। প্রায় পাঁচশো বছর আগে আদি-গঙ্গা এইখান দিয়ে বয়ে বয়ে মিশে গিয়েছিলো বঙ্গোপসাগরে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর শিষ্যদেরকে নিয়ে নীলাচলে যাবার সময় এখানে থেমে ছিলেন। সাংস্কৃতিক আবহাওয়ায় পরিপুষ্ট এই অঞ্চলটিকে অনেকেই পশ্চিম বাংলার 'দ্বিতীয় নবদ্বীপ' বলেও অভিহিত করে থাকেন। মোটামুটিভাবে ধরা হয়,১৯২৯ সাল নাগাদ এই অঞ্চলের প্রসিদ্ধ দুই ব্যক্তি নৃত্যগোপাল সরকার (বুচকি বাবু) এবং পূর্ণচন্দ্র ঘোষ, দু'জনে মিলে সর্বপ্রথম 'মোয়া' নামক লোভনীয় মিষ্টান্নটির জন্ম দেন। তারপর সেই মোয়ার সুস্বাদ, সুঘ্রাণ আর গুণ ক্রমে ক্রমে সারা পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই, এ...

"কালাপাহাড়"- ইতিহাসে একজন ধ্বংসকারী হিসাবে পরিচিত

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গল্পে একটি বিধ্বংসী মোষের নাম দিয়েছিলেন কালাপাহাড়। কে জানে কেন এমন নামকরণ! মোষ সে কালো, সে ভেঙেচুরে ফেলে—তাতে কালো হতে পারে। কিন্তু কালা তো বধির—যে কানে শুনতে পায় না। তাহলে যার কানে ভালো কথা প্রবেশ করে না—সে-ই ‘কালা’। কখনও কখনও পাহাড় কালো রঙের হয়, বিশাল চেহারার কাউকে আমরা পাহাড়ের সঙ্গে তুলনাও করে থাকি। বিরাট আকারের কালো রঙের মহিষ—কালাপাহাড়? কিন্তু এই কথাটা মনে এলেই মনে পড়ে এটা একজন বিরাট চেহারার দস্যু— যে ধর্ম মানে না— ধর্মস্থান গুঁড়িয়ে ফেলে লুঠতরাজ চালায় আর বড্ড গোঁয়ার গোবিন্দ। পাষাণের মতোই তার কঠিন মন— কারও কথায় কান দেয় না।একজায়গায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন এমন লোকের কথা ভেবেই—‘পিতামহের কীর্তির প্রতি কালাপাহাড়ি করা।’ তাহলে বোঝাই যাচ্ছে যে,লোকটা মোটেই সুবিধের ছিল না— সব কিছু ভেঙেচুরে নষ্ট করে ফেলাতেই যার প্রবল আনন্দ।তবে এর পিছনেও নির্দিষ্ট কারণ ছিল,ছিল হিন্দুধর্মের গোঁড়ামি,রক্ষণশীলতা,অস্পৃশ্যতা। তবে পরিচয়য়ের দিকে যাওয়া যাক এবার। কালাপাহাড় (১৫৩৪-১৫৮০ ) ছিলেন কররানী রাজবংশর এক দুর্ধর্ষ সেনাপতি। তার বাড়ি ছিল অধুনা বাংল...