সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আপনি কি জানেন এটিএম এর পিন কেন চার সংখ্যার হয়?

যত দিন যাচ্ছে এটিএম কার্ডের জনপ্রিয়তা ততই বেড়ে চলেছে। এক্ষেত্রে, নগদ টাকা নিয়ে চলাচলের ঝামেলা যেমন নেই তেমনি প্রয়োজন হলেই কার্ড ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়ার সুবিধাও আছে।মানুষ পকেটে টাকা রাখার চেয়ে এখন ব্যাংকে টাকা রাখতেই পছন্দ করে। যখন দরকার অটোমেটিক টেলার মেশিনে (এটিএম) কার্ড প্রবেশ করার পর চার সংখ্যার পিন দিলেই চলে আসে নগদ টাকা।

কোনোদিন কি কেও ভেবেছেন বা এই সূক্ষ্ম চিন্তা কারোও মাথায় এসেছে যে,এটিএম কার্ডের পিন কেন চার অংকের হয়? ছয় বা আট অঙ্কের কেন হয় না। এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই।আর এর পেছনের রহস্যটাও বেশ মজার।তাহলে আজ শুনে নেওয়া যাক এটিএমের পিন নম্বর কেন চার অঙ্কের হয়।

এটিএম বা অটোমেটেড টেলারিং মেশিনের প্রথম ব্যবহার শুরু হয় ১৯৬৭ সালে। এই মেশিন তৈরিতে সবার আগে নাম উঠে আসে স্কটিশ বিজ্ঞানী জন অ্যাড্রিয়ান শেফার্ড-ব্যারনের। মূলত তাঁকেই এটিএমের উদ্ভাবক বলা হয়ে থাকে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,উইম্বলডনে মহিলাদের ডাবলস চ্যাম্পিয়ন ডরোথি ব্যারন ছিলেন এই জন অ্যাড্রিয়ানের মা। অ্যাড্রিয়ানের সঙ্গে ভারতীয় যোগও রয়েছে। তিনি জন্মেছিলেন মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে।

যাই হোক মজার ব্যাপার হলো এই যে, এর পেছনে রয়েছে একজন নারীর অবদান। যে এই সংখ্যাটা ছয় অংক হওয়ার সিদ্ধান্তকে বদলে দিয়েছিল। তবে কোন নারী নয়,স্কটিশ আবিষ্কারক জন অ্যাড্রিয়ান শেফার্ড ব্যারন আজকের এটিএম মেশিন তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিলেন।

তাহলে আপনারা ভাবছেন মহিলার ভূমিকা কি? মহিলাটি ছিলেন তার সহধর্মিণী।এটিএম আবিষ্কারক শেফার্ড ছয় অংকের পাসওয়ার্ড দিতে চেয়েছিলেন। দিয়েও ফেলতেন। কিন্তু তার স্ত্রী ক্যারোলিনের আপত্তিতেই শেষ পর্যন্ত পিন নম্বর চার সংখ্যা করার সিদ্ধান্ত নেন জন শেফার্ড ব্যারোন। কারণ, ক্যারোলিনের স্মৃতিশক্তি খুব একটা ভাল ছিল না। ৬ সংখ্যার পিন নম্বর মনে রাখা তার জন্য কষ্টকর ছিলো। স্ত্রীর আপত্তিতেই শেষ পর্যন্ত চার সংখ্যার পিন নম্বরের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

চার সংখ্যার পিন মনে রাখতেই মানুষকে হিমশিম খেতে হয় সেখানে আবার ছয় সংখ্যা হলে তো মানুষ পিন নাম্বার মনে রাখার জন্য দুশ্চিন্তায় ভুগত। যদিও উন্নত বিশ্বের অনেক ব্যাংক কিছু কিছু গ্রাহকদের জন্য এখন ছয় সংখ্যার পাসওয়ার্ডও চালু করেছে।তবে যাদের স্মৃতিশক্তি একটু কম তাদের অবশ্যই স্ত্রী শেফার্ডকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।।

                        -------------------------

তথ্যসূত্রঃ- সংবাদ সংস্থা।
ইন্টারনেট।
The end.

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"কালাপাহাড়"- ইতিহাসে একজন ধ্বংসকারী হিসাবে পরিচিত

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গল্পে একটি বিধ্বংসী মোষের নাম দিয়েছিলেন কালাপাহাড়। কে জানে কেন এমন নামকরণ! মোষ সে কালো, সে ভেঙেচুরে ফেলে—তাতে কালো হতে পারে। কিন্তু কালা তো বধির—যে কানে শুনতে পায় না। তাহলে যার কানে ভালো কথা প্রবেশ করে না—সে-ই ‘কালা’। কখনও কখনও পাহাড় কালো রঙের হয়, বিশাল চেহারার কাউকে আমরা পাহাড়ের সঙ্গে তুলনাও করে থাকি। বিরাট আকারের কালো রঙের মহিষ—কালাপাহাড়? কিন্তু এই কথাটা মনে এলেই মনে পড়ে এটা একজন বিরাট চেহারার দস্যু— যে ধর্ম মানে না— ধর্মস্থান গুঁড়িয়ে ফেলে লুঠতরাজ চালায় আর বড্ড গোঁয়ার গোবিন্দ। পাষাণের মতোই তার কঠিন মন— কারও কথায় কান দেয় না।একজায়গায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন এমন লোকের কথা ভেবেই—‘পিতামহের কীর্তির প্রতি কালাপাহাড়ি করা।’ তাহলে বোঝাই যাচ্ছে যে,লোকটা মোটেই সুবিধের ছিল না— সব কিছু ভেঙেচুরে নষ্ট করে ফেলাতেই যার প্রবল আনন্দ।তবে এর পিছনেও নির্দিষ্ট কারণ ছিল,ছিল হিন্দুধর্মের গোঁড়ামি,রক্ষণশীলতা,অস্পৃশ্যতা। তবে পরিচয়য়ের দিকে যাওয়া যাক এবার। কালাপাহাড় (১৫৩৪-১৫৮০ ) ছিলেন কররানী রাজবংশর এক দুর্ধর্ষ সেনাপতি। তার বাড়ি ছিল অধুনা বাংল...

ভারতবর্ষে পর্তুগীজ আগমনের ইতিবৃত্তঃ- একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

প্রাচীনকাল থেকেই বৃহত্তর বঙ্গদেশ( বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ) ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের এক অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। বাঙলার ক্ষেতের অফুরন্ত ফসল এবং তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড়,ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধনসম্পদের লোভে যুগ যুগ ধরে দেশ-বিদেশের বণিকরা ছুটে এসেছে এই দেশে।ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপীয় বণিকদের আনাগোনা শুরু হয় এই বাঙলায়। ইউরোপীয়দের মধ্যে সমুদ্রপথে পর্তুগিজরাই প্রথম বাঙলায়, তথা ভারতীয় উপমহাদেশে এসে পৌঁছায় ও বাংলাসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে। মুঘল সম্রাট আকবরের অনুমতিবলে হুগলীতে তারা পর্তুগিজ বন্দর-নগরী পত্তন করেছিল। সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে হুগলী ছিল বাঙলার অন্যতম প্রধান এক নগরী।তবে এখানে এসে তারা পরবর্তীসময়ে হার্মাদগিরি করার ফলে সম্রাট শাহজাহান সহ পরবর্তী সম্রাটদের বিরাগভাজনের কারন হন তারা।এসব বিভিন্ন কারণে সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে পর্তুগিজরা হুগলী ছেড়ে চলে যেতে শুরু করলে সেই স্থান দখল করে ইংরেজ ও ওলন্দাজরা । কিন্তু এখনো একটু খোঁজ করলেই হুগলীর পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায় – হয়ত কোন একটা এলাকার নাম, অথবা কোন একটা...

"জামাইষষ্ঠী" ও "জলভরা" সন্দেশের উৎপত্তি ও ইতিহাস

★ জামাইষষ্ঠি ও জলভরা সন্দেশের উৎপত্তি ও ইতিহাসঃ- খাদ্যরসিক বাঙালীর কাছে "জ" শব্দটি খুবই জনপ্রীয় এবং আমোদপ্রীয় অক্ষরও বটে।এখন আপনারা বলবেন যে এত্ত ভালো ভালো অক্ষর থাকতে শেষে কিনা "জ" ।কই,আমরাও তো বাঙালী "জ" কে তো এত্ত পাত্তা দিই না।আরে মশাই আপনিও দেন,,,বলছি তো দেন।নাহলে "জামাষষ্ঠী " কবে আসবে,আর শ্বাশুড়ি মার হাতে কত্ত কি লিচু,আম,কলা,মাংস-টাংস খাবেন তার জন্য দিন গোনেন কেন?আর সেই "জামাইষষ্ঠীর" মিষ্টির পাতে "জলভরা" থাকবে না এটা কখনো কি সম্ভব? যাইহোক এতক্ষনে মনে হয় আপনারা প্রত্যেকেই "জ" এর মাহাত্ম্য বুঝে গিয়েছেন।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এখানে আমি "জ"এর উৎপত্তি দেখাতে আসিনি,এই যে "জ" দিয়ে দু-দুটো শব্দ পেলাম,তারই ইতিবৃত্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করতে এসেছি।তবে এবার আসা যাক আসল কথায়। বাঙালীর ঘরে ঘরে বৌভাতের মতোই জামাইষ্ঠী হল একটি সম্পর্কের সম্মানার্থে পালনীয় উৎসব।প্রথমটি নববধূর আগমনে অনুষ্ঠিত হয়,দ্বিতীয়টি অনুষ্ঠিত হয় জামাতার আগমনে।কিন্তু আপনি কি জানেন, জামাই ষষ্ঠী আসলে জামাইদের উৎসবই নয়? অবাক হচ্ছেন...