সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তিন বেলা অভুক্ত থাকা ছেলেটি আজ ৪০ মিলিয়ান ডলারের মালিক

ফলতার গল্প শুনতে আমরা প্রত্যেকেই  ভালোবাসি।দিন খাওয়া মানুষের জীবনযাপন হঠাৎ করেই রাজার হালে ফিরে আসলে অবাক হয়ে পুলকিত হই। খুব কম জনই থাকে, যারা কোনো মানী ব্যক্তির দুুুুুুুুুরাবস্থা থেকে ভালো জায়গায় উত্থানের ইতিবৃত্ত জানেন।ফলে অনেক সময় এইসব ব্যাক্তিদের কষ্টের অধ্যায় এবং ভালো জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সংগ্রামের ইতিহাস জনসমক্ষের আড়ালে চলে যায়।আমার মনে হয় এই ইতিহাস সকলের জানা উচিত,নিজের মনের জোড়কে বাড়াতে।আজ এমনই একজন বিখ্যাত ক্রিকেটারকে নিয়ে রইল আমার নিবেদন।

                         বাবার সাথে ক্রিশ গেল

ক্রিস গেইল কে আমরা সবাই চিনি। তার সফলতার দিকটি সকলের কাছেই উন্মোচিত।অনেকেরই হয়তো জানা নেই তার শৈশবকাল খুব একটা সুখকর ছিল না। ক্রিসট্রোপার হেনরি গেইলের জন্ম ১৯৭৯ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর জ্যামাইকার কিংস্টনের এক বস্তিতে বসবাসকারী অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে।তারা সব মিলিয়ে মোট ছয় ভাইবোন ছিলেন। ক্রিস গেইল ছিলেন তার পিতা-মাতার পঞ্চম তম সন্তান। তার বাবা ডুডলি গেইল পেশায় একজন পু’লিশ অফিসার ছিলেন। পু’লিশের চাকরি হলেও বেতন যা পেতেন তা দিয়ে সংসার চালানো খুবই দুস্কর হয়ে পরতো। পরিবারের অভাব তাদের পিছু ছাড়েনি।

                       পিতা-মাতার সাথে গেইল

স্বামী-সন্তান নিয়ে বেশ বড় পরিবারের চার বেলা খাবার খরচা কম নয়। এইজন্য ক্রিস গেইলের মাকেও রোজগারের রাস্তায় নামতে হয়। হেনরি গেইল প্রতিবেশীদের দরজায়-দরজায় এবং পার্কে ঘুরে ঘুরে বাদাম এবং ছোটখাটো খাবার বাচ্চাদের খাবার বিক্রি করতেন। এমনই এক হতদরিদ্র পরিবার থেকেই ক্রিকেটের জগতে নাম লিখিয়েছেন ক্রিস্টোফার হেনরি গেইল, যাকে আমরা সকলের ক্রিস গেইল নামে চিনি।

                            ছোটো বয়সে গেইল

ছোট থেকেই বেশ দুরন্ত ছিলেন গেইল। ভবিষ্যৎ ছিল পূর্বনির্ধারিত। প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর সমুদ্রে মাছ ধরে কিংবা মদের দোকানে কাজ করে সংসার চালানোর কথায় ভাবা হয়েছিল গেইলকে নিয়ে। কারণ সংসারে ছিল অভাব। বাস্তবের কঠোর পথে পথে হাঁটতে হাঁটতে কার জীবন  কোনদিকে মোড় নেবে তা কে বলতে পারে? গেইলের জীবনেও সেই মোড় এসেছিল দুনিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার।

বর্তমানে গেইল একজন নামজাদা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত। তিন বেলা খাবার জুটত না। তবে রোজই উত্তম-মধ্যম জুটত তার কপালে। খাবে নাইবা কেন, অত্যন্ত দুরন্ত ছিলেন তিনি। সবচেয়ে বেশি মার খেতেন মায়ের কাছে। সারাদিন ঘুরে বেড়ানো, স্কুল থেকে পালানো, মারপিট ইত্যাদি গুণের অধিকারী ছিলেন তিনি।

                           তরুন বয়সী গেইল

এ বিষয়ে সে ছোট থেকেই পারদর্শী ছিল। খেতে বসে জেদ করতেন, ঠিকমতো খেতে চাইতেন না। অন্যদিকে মাও তাকে ভালোরকম শাসন করতেন।সেই দুরন্ত ছটফটে প্রাণোচ্ছল গেইল আজ ক্রিকেটজগতের অন্যতম ব্যাটসম্যান। ছোট থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে গেইলের প্রতিভা ছিল আকাশচুম্বি।তাকে ক্রিকেটে মনোনিবেশ করানোর দিক থেকে তিনি সবসময় যে ক্লাবের নাম করেন তা হল, লোকাস ক্রিকেট ক্লাব। তাদের চোখেই গেইল এর প্রতিভা ধরা পড়ে। এরপর ক্লাবটি থেকেই নিজের ক্রিকেটের জয়যাত্রা শুরু করেন গেইল। শুরু থেকেই তিনি ছিলেন দুর্ধর্ষ ব্যাটসম্যান

অতঃপর তাঁর ব্যাটিং জ্যামাইকান নির্বাচকদেরও ভালো লেগে যায়। তাঁরা তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে খবর দেন যে জ্যামাইকা থেকে তাঁরা নতুন প্রতিভাবান দুর্ধর্ষ ক্রিকেটার কে পাঠাচ্ছেন।এরপর ক্রিকেট বোর্ডের দ্বারা অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলার জন্য তিনি মনোনীত হন। সেখানেও তার খেলা দেখে দর্শকরা অভিভূত হয়।
 ক্রিকেটার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ক্রিশ গেইল 

১৯৯৯ সালে সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় দলে। ২০০৬ সালে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় ক্রিস গেইলের। গত ১৪ বছরের মধ্যে সব ধরনের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তার সর্বোচ্চ রেকর্ড ২০টি সেঞ্চুরি। এছাড়াও, ফর্ম্যাটটিতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান, সর্বোচ্চ বাউন্ডারি, দ্রততম সেঞ্চুরি সহ অন্যান্য রেকর্ডও তিনি করেন।

দ্যা কিং অফ টি টোয়েন্টি” নামটি তার ভক্তগনের দেওয়া। শৈশবকাল খুব অভাব এর মধ্যে দিয়ে কেটেছে তার। দিন কাটিয়েছেন না খেয়ে। সেই ক্রিস্টোফার হেনরি গেইল আজ ৪০ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তির মালিক। যদিও শৈশবের কাটিয়ে আসা দিনগুলোর কথা তিনি আজও ভুলতে পারেন না। ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে নিজস্ব  অর্থ সাহায্যে গড়ে তোলেন, হতদরিদ্র কিশোর এবং যুবকদের জন্য “দ্য ক্রিস গেইল একাডেমি”।সুতরাং জীবন কখনও থেমে থাকে না।তবে বাস্তবের পথে হেঁটে যেতেই হবে,কখনও থেমে গেলে চলবে না,সাফল্য একদিন আসবেই।।

                           -----------------

তথ্যসূত্র-ঃ সংবাদ সংস্থা



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

"কালাপাহাড়"- ইতিহাসে একজন ধ্বংসকারী হিসাবে পরিচিত

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গল্পে একটি বিধ্বংসী মোষের নাম দিয়েছিলেন কালাপাহাড়। কে জানে কেন এমন নামকরণ! মোষ সে কালো, সে ভেঙেচুরে ফেলে—তাতে কালো হতে পারে। কিন্তু কালা তো বধির—যে কানে শুনতে পায় না। তাহলে যার কানে ভালো কথা প্রবেশ করে না—সে-ই ‘কালা’। কখনও কখনও পাহাড় কালো রঙের হয়, বিশাল চেহারার কাউকে আমরা পাহাড়ের সঙ্গে তুলনাও করে থাকি। বিরাট আকারের কালো রঙের মহিষ—কালাপাহাড়? কিন্তু এই কথাটা মনে এলেই মনে পড়ে এটা একজন বিরাট চেহারার দস্যু— যে ধর্ম মানে না— ধর্মস্থান গুঁড়িয়ে ফেলে লুঠতরাজ চালায় আর বড্ড গোঁয়ার গোবিন্দ। পাষাণের মতোই তার কঠিন মন— কারও কথায় কান দেয় না।একজায়গায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন এমন লোকের কথা ভেবেই—‘পিতামহের কীর্তির প্রতি কালাপাহাড়ি করা।’ তাহলে বোঝাই যাচ্ছে যে,লোকটা মোটেই সুবিধের ছিল না— সব কিছু ভেঙেচুরে নষ্ট করে ফেলাতেই যার প্রবল আনন্দ।তবে এর পিছনেও নির্দিষ্ট কারণ ছিল,ছিল হিন্দুধর্মের গোঁড়ামি,রক্ষণশীলতা,অস্পৃশ্যতা। তবে পরিচয়য়ের দিকে যাওয়া যাক এবার। কালাপাহাড় (১৫৩৪-১৫৮০ ) ছিলেন কররানী রাজবংশর এক দুর্ধর্ষ সেনাপতি। তার বাড়ি ছিল অধুনা বাংল...

"জয়নগরের মোয়া-উপাখ্যান"

শীতকাল এলেই বাঙালীর যেটা সবার আগে মাথায় আসে তা হল নলিনগুড়,পিঠেপুলি,আর জয়নগরের মোয়া।এগুলো ছাড়া চলবেই না।আমরা সকলেই এইসব বিভিন্ন খাদ্যের সাথে পরিচিত।আজ এরকমই এক সুস্বাদু মিষ্টান্ন "জয়নগরের মোয়া" -র ইতিবৃত্ত তুলে ধরছি আমার ছোট্ট প্রবন্ধ-পটে।ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। ইতিহাসের সাথে ভূগোলের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।ভূগোল ছাড়া ইতিহাস সম্ভব নয়,সুতরাং ভৌগলিক দিক থেকে জয়নগর মজিলপুর হলো দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ছোট্ট একটা গ্রাম। প্রায় পাঁচশো বছর আগে আদি-গঙ্গা এইখান দিয়ে বয়ে বয়ে মিশে গিয়েছিলো বঙ্গোপসাগরে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর শিষ্যদেরকে নিয়ে নীলাচলে যাবার সময় এখানে থেমে ছিলেন। সাংস্কৃতিক আবহাওয়ায় পরিপুষ্ট এই অঞ্চলটিকে অনেকেই পশ্চিম বাংলার 'দ্বিতীয় নবদ্বীপ' বলেও অভিহিত করে থাকেন। মোটামুটিভাবে ধরা হয়,১৯২৯ সাল নাগাদ এই অঞ্চলের প্রসিদ্ধ দুই ব্যক্তি নৃত্যগোপাল সরকার (বুচকি বাবু) এবং পূর্ণচন্দ্র ঘোষ, দু'জনে মিলে সর্বপ্রথম 'মোয়া' নামক লোভনীয় মিষ্টান্নটির জন্ম দেন। তারপর সেই মোয়ার সুস্বাদ, সুঘ্রাণ আর গুণ ক্রমে ক্রমে সারা পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই, এ...

ভারতবর্ষে পর্তুগীজ আগমনের ইতিবৃত্তঃ- একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

প্রাচীনকাল থেকেই বৃহত্তর বঙ্গদেশ( বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ) ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের এক অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। বাঙলার ক্ষেতের অফুরন্ত ফসল এবং তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড়,ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধনসম্পদের লোভে যুগ যুগ ধরে দেশ-বিদেশের বণিকরা ছুটে এসেছে এই দেশে।ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপীয় বণিকদের আনাগোনা শুরু হয় এই বাঙলায়। ইউরোপীয়দের মধ্যে সমুদ্রপথে পর্তুগিজরাই প্রথম বাঙলায়, তথা ভারতীয় উপমহাদেশে এসে পৌঁছায় ও বাংলাসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে। মুঘল সম্রাট আকবরের অনুমতিবলে হুগলীতে তারা পর্তুগিজ বন্দর-নগরী পত্তন করেছিল। সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে হুগলী ছিল বাঙলার অন্যতম প্রধান এক নগরী।তবে এখানে এসে তারা পরবর্তীসময়ে হার্মাদগিরি করার ফলে সম্রাট শাহজাহান সহ পরবর্তী সম্রাটদের বিরাগভাজনের কারন হন তারা।এসব বিভিন্ন কারণে সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে পর্তুগিজরা হুগলী ছেড়ে চলে যেতে শুরু করলে সেই স্থান দখল করে ইংরেজ ও ওলন্দাজরা । কিন্তু এখনো একটু খোঁজ করলেই হুগলীর পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায় – হয়ত কোন একটা এলাকার নাম, অথবা কোন একটা...