"নোকিয়া" নামটির সাথে আমরা সকলেই ভীষন পরিচিত।কিন্তু জানেন কি এই "নোকিয়া" নামটির উৎপত্তির ইতিহাস।না এটা কোনো মোবাইল কোম্পানির নাম থেকে আসেনি।আসলে একটি নদীর নাম, ধার নিয়েছিলেন এক ইঞ্জিনিয়ার নদী তীরে চুপটি করে বসে আছে, ছোট্ট একটা শহর, নদীর নামানুসারে কোলাহলহীন এই শহরটির নামও নোকিয়া।আমরা সকলেই কম বেশি জানি যে,মোবাইল ফোনের জগতে ঝড় তোলা কোম্পানি নোকিয়া, অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের কোম্পানিগুলির কাছে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব খুইয়ে ফেললেও, নোকিয়া নামটি কিন্তু গেঁথে আজও আছে মানুষের মনের ভেতর।
আসলে এই নোকিয়া নামেই আছে জাদু। যে নামের বয়স হয়তো কয়েক হাজার বছর।
নোকিয়া আসলে ফিনল্যান্ডের একটা নদীর নাম। পুরো নাম ছিল ‘নোকিয়ানভির্তা’, পরে নামটা হয়ে যায় ‘নোকিয়া’। পিরাকানমার পাইয়াজার্ভি হ্রদ থেকে সৃষ্টি হয়ে, ৯ কিলোমিটার পথ অত্যন্ত্য ধীরগতিতে পাড়ি দিয়ে, কুলোভেসি হ্রদে গিয়ে পড়েছে এই ছোট্ট নদীটি। অপরূপ নিসর্গের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই নদীটি। অসামান্য সৌন্দর্য্য ঘিরে আছে নদীটিকে। পাথর দিয়ে তৈরি করা পুরানো কিছু প্যালেস। ঢেউ খেলানো সবুজ ঘাসের গালচে পাতা পার্ক।
নোকিয়া নদীর দুই তীরে আছে ওক, ম্যাপল, সিডার গাছের ঘন জঙ্গল। নদীটির ওপরে আছে একটি মাত্র ব্রিজ। যে ব্রিজের ওপর ভিড় করেন দেশিবিদেশি পর্যটকের দল। নদীতে নামার অনুমতি নেই। তাই স্নানের ইচ্ছা থাকলেও, সে ইচ্ছা সযত্নে পরিহার করেন পর্যটকেরা, আইনী জটিলতা এড়াবার জন্য।এই নদীর তীরে চুপটি করে বসে আছে ছোট্ট একটা শহর। কোলাহলহীন এই শহরটির নামও নোকিয়া,নদীটির নামানুসারে।নোকিয়া শহরটিতে বাস করেন মাত্র হাজার ত্রিশেক মানুষ। যাঁদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই নোকিয়া নদী। শহরের মানুষেরা নদীটির জল ময়লা হতে দেন না। তাই নোকিয়া নদীর জল কাচের মতো স্বচ্ছ। এর জন্য শহরবাসীরা যথেষ্ট গর্বিত।ঝড়ের পর গাছের পাতা, কাগজ, প্লাস্টিক বা অনান্য কিছু নদীর বুকে গিয়ে পড়লে, শহরবাসীরা নিজেদের নৌকা নিয়ে নেমে পড়েন নদী পরিষ্কার করার জন্য। শীতকালে নদীটির জল জমে বরফে পরিণত হয়। তখনও নদীর বুকে নামা বা সাঁতার কাটা বারণ। নদীর পাড় নোংরা করার শাস্তি ভীষণ কড়া। না জেল নয়, প্রচুর টাকা জরিমানা করা হয়। তা সঙ্গে সঙ্গে আদায় করে নেওয়া হয়। কোনও ছাড় নেই। ফলে নোকিয়া নদীর জল ও তীর থাকে পরিষ্কার।
নোকিয়া নামটি ফিনল্যান্ডের মানুষেরা জানলেও, বিশ্বজুড়ে নামটি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল ফিনল্যান্ডের ইঞ্জিনিয়ার ফেডরিক ইডেস্টামের জন্য। ইঞ্জিনিয়ার ফেডরিক ইডেস্টাম, ১৮৬৫ সালের ১২ মে, এই নোকিয়া নদীর তীরে একটি কাগজ তৈরির কারখানা করেছিলেন।নোকিয়ানভির্তা নদীর নামেই কারখানাটির নাম রেখেছিলেন ‘নোকিয়া এবি’। নোকিয়া নদীর তীরে আজও আছে লাল ইঁটে তৈরি এই কারখানাটি। ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছিল,ফেডরিক ইডেস্টামের ব্যবসা, কাগজের সঙ্গে রাবার আর চিনামাটি উৎপাদনে হাত দিয়েছিলেন ফেডরিক ইডেস্টাম।
এরপর কেটে গিয়েছিল প্রায় একশো বছর। প্রয়াত হয়েছিলেন ফেডরিক ইডেস্টাম। ১৯১২ সালে ‘নোকিয়া এবি’ প্রবেশ করেছিল প্রযুক্তির বাজারে। তৈরি করতে শুরু করেছিল টেলিফোন, টেলিগ্রাফ যন্ত্র ও ইলেকট্রিক কেবল। ১৯৬৭ সালে কোম্পানিটির নাম বদলে হয়েছিল নোকিয়া করপোরেশন। ১৯৭৮ সালে নোকিয়া কর্পোরেশন বাজারে নিয়ে এসেছিল মিনি কম্পিউটার। এভাবেই ১৯৮৭ সালে এসে গিয়েছিল নোকিয়া করপোরেশনের প্রথম মোবাইল ফোন Mobira Cityman 900। তৈরি হয়েছিল ইতিহাস। এর পর থেকে নিশ্চই বলে দিতে হবে না যে নোকিয়া ফোন কিভাবে সমগ্র বিশ্বে মোবাইল বিপ্লব ঘটিয়েছিল।যার নামের অবিশ্বাস্য সৌন্দর্য্য লুকিয়ে আছে শান্ত স্নিগ্ধ এক নদী, যার নাম নোকিয়া।
সূত্র----ইন্টারনেট,উইকিপিডিয়া।।
★★★উপরিউক্ত প্রবন্ধটি কোনো গবেষণাপত্র বা এরূপধর্মী কোনো কাজ নয়।কতকগুলি সংগৃহিত [বিভিন্ন বই,ইন্টারনেট,উইকিপিডিয়া,Article,বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থেকে নেওয়া তথ্য] তথ্যের ছাত্রপাঠ্য এবং সুখপাঠ্য বিশ্লেষণ মাত্র।এরূপ ইতিহাসের আরও ছোটো বড়ো গল্প, প্রবন্ধ,আলোচনা পড়ার জন্য আমার ব্লগটি ফলো করুন সকলে। যথাযথভাবে আরও লেখার চেষ্টা করব।।
অসাধারণ
উত্তরমুছুন