সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রেমকাহিনী- ইতিহাসের আলোকে

সময়টা ঠিক আনুমানিক  320 খ্রিস্টপূর্বের  আশেপাশে,স্থান ঝিলম নদীর ধারে, পাঞ্জাব । রাজকুমারী কর্ণেলিয়া এসেছেন ঝিলম নদীর ধারে সাথে রয়েছেন কয়েকজন সহচরি।ঝিলমের জল বয়ে চলেছে শান্ত হয়ে। বিভিন্ন ছোট বড় পাথরের মধ্যে দিয়ে। স্বচ্ছ পরিষ্কার জল।চারপাশের গাছপালা নুয়ে রয়েছে নদীর উপরে।শীতের আগমন হতে চলেছে।চারপাশে একটা মনমুগ্ধকর আবহাওয়া।সেই সময়ে এসেছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য ।একলা তিনি বেরিয়েছেন এলাকা পরিদর্শনে।অদূরে রয়েছে ছাউনি তার।নদীর ধারে আসতে তার চোখাচোখি হল এক পরমা সুন্দরী কন্যার ।বেশ কয়েক পলক দেখলেন তিনি সত্যিই অপরূপা।তবে কন্যার গায়ের রঙ চুল বলে দিচ্ছে এই কন্যা আসলে এক ইউনানী।কে এই কন্যা?পরিচয় জিজ্ঞাসা করে জানা গেল তিনি হেলেনা নিকেটর তথা কর্ণেলিয়া তথা সেলুকাসের কন্যা।  সেলুকাস ছিলেন আলেক্সান্ডার এর সেনাপতি আমরা যারা ন্যুনতম ইতিহাস পড়েছি তারা প্রত্যেকেই জানি।পুরু রাজার সাথে যুদ্ধে হেরে আলেকজান্ডার ফিরে যান মেসিডনিয়া। তার বিজিত রাজ্য ভাগ করে নেয় সেনাপতিরা। তারা ছিলেন বিভিন্ন ছোট ছোট রাজ্যে ভাগ হয়ে সারাটা ভারত জুড়ে।  এরপরে ধননন্দকে পরা...

অপ্রতিরোধ্য রামমোহন✊

ইউরোপের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তখন জ্ঞানদীপ্ত স্বৈরাচার,উচ্চারিত হচ্ছে চতুর্দশ লুইয়ের আমিই রাষ্ট্র অমোঘের মতো,স্থবির সমাজের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠতে শুরু করেছে,জ্ঞানীগুণী ব্যাক্তিরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিপ্লবের গুঞ্জন তুলছেন।ভারতবর্ষের সমাজ-ব্যাবস্থায় অষ্টাদশ শতাব্দীর অন্ধকার তখনও কাটেনি। ঠিক এই সন্ধিক্ষনে এক যুগাবতার জন্মগ্রহন করেন।তিনি আর কেও নন ভারতের মহান সন্তান রাজা রামমোহন রায়(১৭৭৪,২২ মে) হুগলী জেলার অন্তর্গত খানাকুল-কৃষ্ণ নগরের কাছে রাধানগর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতা ছিলেন রামকান্ত রায়,মাতা-তারিণী দেবী। রামমোহনের পূর্বপুরুষ রাজ সরকারের কাজ করে ‘রায়রায়ান’ উপাধি লাভ করে। তবে তাদের কৌলিক উপাধি ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’। পিতা রামকান্ত ও তারিণী দেবী দুইজনই ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। রামাকান্ত শেষ জীবনে বৈষ্ণব হোন এবং হরিনাম করে জীবনের শেষ দিনগুলো অতিবাহিত করেন। অন্যদিকে তারিণী দেবী’তো কোর্টে রামমোহনের বিরুদ্ধে মামলা-ই করে বসেন! বিচারের সময় সগর্বে উচ্চারণ করেছিলেন- ধর্মত্যাগী পুত্রের মস্তক যদি এখানে ছিন্ন করা হয় তাহলে আমি পুণ্য কাজ বলে মনে করব। ছেলে বিধর্মী, তাই পৈতৃক সম্পত্তির অধিকারী ...

"কালাপাহাড়"- ইতিহাসে একজন ধ্বংসকারী হিসাবে পরিচিত

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গল্পে একটি বিধ্বংসী মোষের নাম দিয়েছিলেন কালাপাহাড়। কে জানে কেন এমন নামকরণ! মোষ সে কালো, সে ভেঙেচুরে ফেলে—তাতে কালো হতে পারে। কিন্তু কালা তো বধির—যে কানে শুনতে পায় না। তাহলে যার কানে ভালো কথা প্রবেশ করে না—সে-ই ‘কালা’। কখনও কখনও পাহাড় কালো রঙের হয়, বিশাল চেহারার কাউকে আমরা পাহাড়ের সঙ্গে তুলনাও করে থাকি। বিরাট আকারের কালো রঙের মহিষ—কালাপাহাড়? কিন্তু এই কথাটা মনে এলেই মনে পড়ে এটা একজন বিরাট চেহারার দস্যু— যে ধর্ম মানে না— ধর্মস্থান গুঁড়িয়ে ফেলে লুঠতরাজ চালায় আর বড্ড গোঁয়ার গোবিন্দ। পাষাণের মতোই তার কঠিন মন— কারও কথায় কান দেয় না।একজায়গায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন এমন লোকের কথা ভেবেই—‘পিতামহের কীর্তির প্রতি কালাপাহাড়ি করা।’ তাহলে বোঝাই যাচ্ছে যে,লোকটা মোটেই সুবিধের ছিল না— সব কিছু ভেঙেচুরে নষ্ট করে ফেলাতেই যার প্রবল আনন্দ।তবে এর পিছনেও নির্দিষ্ট কারণ ছিল,ছিল হিন্দুধর্মের গোঁড়ামি,রক্ষণশীলতা,অস্পৃশ্যতা। তবে পরিচয়য়ের দিকে যাওয়া যাক এবার। কালাপাহাড় (১৫৩৪-১৫৮০ ) ছিলেন কররানী রাজবংশর এক দুর্ধর্ষ সেনাপতি। তার বাড়ি ছিল অধুনা বাংল...

ভারতবর্ষে পর্তুগীজ আগমনের ইতিবৃত্তঃ- একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

প্রাচীনকাল থেকেই বৃহত্তর বঙ্গদেশ( বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ) ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের এক অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। বাঙলার ক্ষেতের অফুরন্ত ফসল এবং তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড়,ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধনসম্পদের লোভে যুগ যুগ ধরে দেশ-বিদেশের বণিকরা ছুটে এসেছে এই দেশে।ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপীয় বণিকদের আনাগোনা শুরু হয় এই বাঙলায়। ইউরোপীয়দের মধ্যে সমুদ্রপথে পর্তুগিজরাই প্রথম বাঙলায়, তথা ভারতীয় উপমহাদেশে এসে পৌঁছায় ও বাংলাসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে। মুঘল সম্রাট আকবরের অনুমতিবলে হুগলীতে তারা পর্তুগিজ বন্দর-নগরী পত্তন করেছিল। সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে হুগলী ছিল বাঙলার অন্যতম প্রধান এক নগরী।তবে এখানে এসে তারা পরবর্তীসময়ে হার্মাদগিরি করার ফলে সম্রাট শাহজাহান সহ পরবর্তী সম্রাটদের বিরাগভাজনের কারন হন তারা।এসব বিভিন্ন কারণে সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে পর্তুগিজরা হুগলী ছেড়ে চলে যেতে শুরু করলে সেই স্থান দখল করে ইংরেজ ও ওলন্দাজরা । কিন্তু এখনো একটু খোঁজ করলেই হুগলীর পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায় – হয়ত কোন একটা এলাকার নাম, অথবা কোন একটা...

ইনকা সভ্যতা'র ইতিবৃত্ত।

পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতাগুলির মধ্যে গ্রীক ও রোমান সভ্যতা,ভারতের সিন্ধু সভ্যতা, মিশরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,এবং মেসোপটেমিয়া সভ্যতা সবিশেষ উল্লেখ্যযোগ্য।এতটা সুপ্রাচীন না হলেও এরকমই একটি উন্নত এবং রহস্যময়ী সভ্যতা ছিল দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম অংশে আন্দিজ পর্বতমালার বুকে গড়ে ওঠা ইনকা সভ্যতা (১৪৩৮-১৫৩৩ খ্রীঃ )।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মিশরের পিরামিডের নির্মাণশৈলী যেমন আধুনিক মানুষকে বিস্মিত করে, ঠিক তেমনি ইনকা সভ্যতার স্থাপত্যশৈলীও অবিশ্বাস্য স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে! আমরা সকলেই জানি যে,অন্যান্য সভ্যতা আরেক সভ্যতার সংস্পর্শে এসে নতুন কিছু শিখেছিলো।যেমন হরপ্পার সাথে মেসোপটেমিয়া,সুমের সভ্যতার আদানপ্রদান ছিল।কিন্তু অন্য সব সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন এই ইনকা সভ্যতা যা করেছিল নিজে নিজেই করেছিল বলে মনে করা হয়। স্থাপত্যবিদ্যা থেকে শুরু করে জ্যোতির্বিজ্ঞন,স্বাস্থ্যবিজ্ঞানেও রয়েছে এঁদের অবদান। আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে কি করে তারা এত উন্নত সভ্যতা গড়ে তুলেছিল! কিভাবে নির্মাণ করেছিল আশ্চর্য স্থাপত্য ‘মাচু পিচু’ নগরী! একমাত্র আকাশপথ ছাড়া কোনোভাবেই আক্রমণ করা সম্ভব ছিলো না যে নগরী।কিন্তু কালের ...