সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভগবান গণেশের হস্তীমস্তক কেন?

কয়েকদিন আগেই গিয়েছে গণেশ চতুর্থী অর্থাৎ  ভগবান গণেশের পূজা। হিন্দু ধর্মে তিনি সিদ্ধিদাতা,বিঘ্নবিনাশক তিনি সকল প্রকার দুশ্চিন্তা হরনকারী,তিনি একাদন্ত অর্থাৎ অহংকারহীনতার প্রতিমূর্তি। তিনি জ্ঞান, বুদ্ধি ঋদ্ধি এবং সিদ্ধির স্বামী।  তিনি শুভ এবং লাভের পিতা। তাই এমনিতে প্রতিদিন নিত্য পূজা থেকে শুরু করে সকল অন্ধকার দূরকারী এই দেবতার পূজা ভক্তিভরে সকল ভক্তমাত্রই করে থাকেন।

কিন্তু তার জন্মের কাহিনী নিয়ে নানা পুরাণ এবং ধর্ম গ্রন্থে নানা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।পুরাণে গণেশ-সংক্রান্ত অনেক কাহিনির উল্লেখ পাওয়া যায়। গণেশের মাথা হাতির মতো হওয়ায়, তাঁকে সহজেই চিহ্নিত করা যায়।তাঁকে কার্যারম্ভ ও বিঘ্ন অপসারণকারী দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়। গণেশ শিল্প ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক এবং জ্ঞান ও বুদ্ধির দেবতা। সংস্কৃত সাহিত্যে গণেশ কীভাবে একজন গুরুত্বপূর্ণ দেবতা হয়ে উঠলেন, সেই বিষয়ে সমীক্ষা করতে গিয়ে 'লুডো রোচার' লিখেছেন --- "সর্বোপরি, সবাই এটা খেয়াল করবেন যে, গণেশ-সংক্রান্ত যে অসংখ্য গল্প প্রচলিত আছে, তা দানা বেঁধেছে অল্প কয়েকটি ঘটনাকে ঘিরে। এই ঘটনাগুলির সংখ্যা প্রধানত তিনরকমের যাথা, তাঁর জন্ম ও পিতামাতার কথা, তাঁর হাতির মাথা এবং তাঁর একটি মাত্র দাঁত থাকার কথা ইত্যাদি । এছাড়া অন্যান্য ঘটনাগুলিও ধর্মগ্রন্থগুলি ছুঁয়ে গিয়েছে, তবে সেগুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।"

আমি আজ আমার ছোট্ট প্রবন্ধপটে তুলে আনার চেষ্টা করেছি যে,বিনায়কের জন্মকথা এবং তাঁর দেহে হস্তিমস্তক কেন?এবিষয়ে আমরা সকলেই কমবেশি জানি,তা ছোটোবেলায় ঠাকুমা দাদুর মুখ থেকেই হোক,বা গ্রামের অষ্টমপ্রহরের মঞ্চ থেকেই হোক।যাইহোক আরেকবার না হয় শুনেই নিন আমার এই প্রতিবেদনে।

বিভিন্ন পৌরাণিক গ্রন্থ অনুযায়ী ভগবান গণেশের জন্ম সম্বন্ধে যে বিভিন্ন বর্ণনা দেওয়া আছে তা আলোচনা করা যাক।প্রথমেই আসা যাক শিবপুরানে।শিব পুরাণ মতে গণেশের উত্‍পত্তি কৈলাস থাকার সময় একদিন দেবী পার্বতী স্নান করতে যাওয়ার আগে তার স্নান ঘরের দরজার কাছে ভগবান শিবের একনিষ্ঠ অনুচর  নন্দীকে দ্বার রক্ষীর কাজে নিয়োগ করেন। তিনি তাকে বলে দেন তিনি স্নানে থাকার সময় কেউ যেন তার স্নান কক্ষে প্রবেশ করে না। কিন্তু হঠাৎ দেখা যায় দেবাদিদেব মহাদেব সেইখানে এসে হাজির হয় এবং স্নান কক্ষে প্রবেশ করেন, নন্দী মহেশ্বরকে স্নান কক্ষে প্রবেশের আগে কোন বাধা দেন নি।

উক্ত ঘটনায় দেবী পার্বতী নন্দীর উপর খুব রেগে যান এবং তাকে শুধু শিবের একান্ত অনুগামী বলে ভর্ৎসনা করেন। তখন তিনি তার একজন খুবই কাছের অনুগামী পাওয়ার জন্য কামনা মনে মনে করেন এবং সেই কথা তার দুই বান্ধবী জয়া এবং বিজয়াকে জানান। তারা দুজনে তাকে পরামর্শ দেন যে সে তার পছন্দের একজন অনুচর তৈরি করতেই পারেন। আর সেই পরামর্শে, সামনের জলাশয় থেকে মাটি নিয়ে তিনি একটি শিশু মূর্তি  তৈরি করেন। তারপর তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন।তা থেকে একটি সুন্দর শিশুর জন্ম হয় যাঁর নাম দেওয়া হয় বিনায়ক।এই বিনায়ক কালক্রমে তৈরি হয় মাতৃভক্তির আধাররূপে।

এই কুমারকে তিনি খুবই ভালোবাসা দিয়ে নিজের সবচেয়ে পছন্দের সন্তান রুপে পালন করতে থাকেন। একদিন তিনি তার এই সন্তানকে একইরকম ভাবে স্নান করতে যাওয়ার সময় দ্বার রক্ষীর দায়িত্ব দিয়ে যান। তখন  সেইস্থানে আবার মহাদেব এসে হাজির হলে তিনি তাকে স্নান কক্ষে প্রবেশ করতে বাধা দেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,দেবী পার্বতি যখন বিনায়কের জন্ম দেন তখন দেবাদীদেব মহাদেব কৈলাসের বাইরে ধ্যানমগ্ন ছিলেন।অর্থাৎ বিনায়কের জন্মবৃত্তান্ত সম্পর্কে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।অতঃপর ভগবান শিব তাকে প্রবেশ করতে দেওয়ার জন্য জেদ করে বসেন,ফলে ক্রুদ্ধ বিনায়ক তাকে যুদ্ধে আহবান করেন এবং গণেশের শক্তিতে তিনি বিস্মিত হন। পরে যখন ভগবান শিবের ক্রোধ চরম সীমায় পৌঁছে যায় তখন তিনি তার ত্রিশূল দিয়ে গণেশের মস্তক খন্ডন করেন। এরপর পার্বতী যখন স্নান কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে গণেশের নিথর দেহ দেখতে পান এবং পুরো ঘটনা শুনে প্রচন্ড ক্রোধিত হন এবং মহামায়া মূর্তি ধারন করে সমগ্র বিশ্ব ব্রম্ভান্ড বিনাশ করতে উদ্যত হন।

তখন সমগ্র দেবতারা মাতা পার্বতীকে অনুরোধ করেন এই বিনাশ তিনি যেন না করেন। মাতা পার্বতী তখন শর্ত রাখেন দেবতাদের কাছে যে,তিনি যেন বিনায়কের পুনরায় প্রাণ ফিরে পান। তার দাবি সকল দেবতারা শুনে তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে যান। এইসময় দেবতারা ভগবান শিবের কাছে যান, ইতিমধ্যেই শিবের ক্রোধ কমে এসেছিল। এবং এই স্থানে শ্রীবিষ্ণু উপস্থিত হয়ে জানান উত্তর দিকে যে প্রাণীকে প্রথমেই দেখতে পাবে, তার মুন্ড যেন নিয়ে আসা হয়,কিন্তু সেই প্রাণী যেন স্ব ইচ্ছায় নিজের মস্তক দান করে,তবেই বিনায়ক প্রাণ ফিরে পাবে।সেই মতো দেবতারা ও শিব অনুচররা বেরিয়ে পরে মস্তকের খোঁজে।

স্কন্দপূরান মতে আবার বলা হয় কর্মফলদাতা শনিদেবের দৃষ্টি বিনায়কের উপর পরে কারন এইসময় বিনায়কের উপর পার্বতির বর থাকায় তাঁর মনে অহংবোধ জন্ম নিয়েছিল।এবং এর প্রভাবে সে আগত মহাদেবকে অপমান করেছিলেন,এবং শনিদেব যেহেতু মহাদেবের সৃজন তাই তাঁর অপমান সহ্য করতে না পেরে তাকে তাঁর কর্মফল দান করেন।এবং এই কর্মফলের প্রভাবেই শিব-বিনায়ক যুদ্ধে শিবের ত্রিশূলের আঘাতে বিনায়কের মুন্ডপাত হয়।

যাইহোক দেবতারা প্রথমেই একটি হস্তী শাবককে দেখতে পান এবং ওই হস্তীশাবক গজাসুর নামে এক অসুর যে পূর্বজন্মের অভিশাপে হস্তিরূপে জন্মগ্রহন করেন।এবং তাঁর শাপমুক্তি আজীবন বিঘ্নকে বিনাশ করবে বলে শ্রীবিষ্ণুর বর ছিল।এইসময় ওই হস্তির কাছে শ্রীবিষ্ণু আবির্ভূত হয়ে গজাসুরকে সব ঘটনা খুলে বলেন এবং গজাসুর নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে তাঁর মস্তক দিতে রাজি হয়ে যায়।আর তাই তৎক্ষনাৎ দেবতারা হস্তী শাবকের মুন্ডটি নিয়ে আসেন। তারপর ভগবান ব্রম্ভা নিজের হাতে সেই মুন্ড নিয়ে গণেশের দেহে জুড়ে দিয়ে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। এইভাবেই গণেশের মুখ হয়ে ওঠে হস্তী মুখ। এরপর হস্তীরূপি বিনায়ককে দেবাদীদেব মহাদেব  বিঘ্নবিনাশক এবং প্রথম পূজ্যের বর দেন।আর এইভাবেই সমগ্র দেবতার পূজার আগে বিঘ্নবিনাশক গণেশের পূজার প্রচলন শুরু হয়।

আবার ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে গণেশের উৎপত্তির কাহিনী একটু ভিন্ন প্রকৃতির।এখানে দেখানো হয়েছে-দেবী পার্বতী একবার ভগবান বিষ্ণুর প্রকৃত রূপ অর্থাৎ শঙ্খ, চক্র ,গদা এবং পদ্ম হাতের  রূপ দেখে সেরকম একটি সন্তান তার হোক বলে মনে মনে বাসনা করেন। তারপর তার বাসনা তিনি ভগবান বিষ্ণুর কাছে জানালে, তিনি তাকে  তার ইচ্ছেমতো পুত্র সন্তান হওয়ার বর প্রদান করেন। সেইমতো পার্বতীর গর্ভে শ্রীবিষ্ণুর অনুরুপ সন্তান জন্ম গ্রহন করে। তারপর মহা ধুমধাম সহ যখন সেই সন্তানকে সকল দেবদেবী দর্শন করতে আসে, এবং আশীর্বাদ প্রদান করে যান। এই পূরাণ মতে শনি দেব হলেন পার্বতির ভাই।তিনি সেইখানে উপস্থিত থেকেও পার্বতীর নব সন্তান অর্থাৎ ভাগনের মুখ দেখতে রাজি হচ্ছিলেন না। কারন শনিদেবের ছিল তার স্ত্রীর দেওয়া অভিশাপ। তাঁর স্ত্রী ধামীনি তাঁকে বিয়ের রাতে মঙ্গল দোষের প্রভাবে অভিশাপ দিয়েছিল,-"যে তুমি যার দিকে তোমার দৃষ্টিপাত করবে তার মস্তক দেহ থেকে আলাদা হয়ে যাবে।"

কিন্তু এই কথা দেবী পার্বতীর জানা ছিল না। তিনি তখন শনি দেবকে তার সন্তানকে দেখে আশীর্বাদ করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু তবুও কর্মফলদাতা শনি রাজি হচ্ছিল না। শেষে অনেক জোরাজুরি করাই শনিদেব যখন পার্বতী পুত্রের দিকে তার দৃষ্টিপাত করেন তখন তৎক্ষণাৎ নব শিশুর মস্তক শরীর থেকে ছিন্ন হয়ে যায়। এই ঘটনায় চারিদিকে হুলস্থুল পড়ে যায়। আর মাতা পার্বতী তার জ্ঞান হারান। তখন ভগবান বিষ্ণু হস্তী শাবকের মুন্ড নিয়ে এসে সেই মস্তকহীন নবশিশুর দেহে স্থাপন করেন এবং প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন।এভাবেই উৎপত্তী ঘটে বিঘ্নবিনাশক গণেশের।

এবার আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে,একই কাহিনী বিভিন্ন পূরাণে ভিন্নতর কেন?প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক।কেননা যেসমস্ত পূরানগুলি থেকে এইসব অ্যাখান সংগৃহিত সেইসব পূরাণগুলি কালক্রমে যুগে যুগে বিবর্তিত হয়েছে,পরিবর্তিত হয়েছে আঞ্চলিকতা,লোকাচার,ধর্মবিশ্বাস,রীতিনীতির প্রভাবে।আর খ্রিষ্টিয় ৬০০ অব্দের পর থেকে সব থেকে বেশি পূরানগুলি বিবর্তিত হয়েছে।প্রাচীন বায়ুপূরাণ,মৎসপূরান,ব্রম্ভান্ড পূরানগুলি পরবর্তী সপ্তম থেকে দশম শতাব্দীতে সবথেকে বেশি প্রক্ষীপ্ত হয়েছিল।পাল সেন যুগের ঐতিহাসিক তথ্যগুলি এই বিবর্তনেরই সাক্ষ্য বহন করে।তবে যেহেতু এইসব অ্যাখান মৌখিক,লৌকিকতা,এবং আধ্যাত্মিকতার উপর প্রতিষ্ঠিত তাই এখানে ঐতিহাসিক তথ্যজ্ঞান না প্রবেশ করানোই ভালো।যথা-"বিশ্বাসে মিলায় বস্তু,তর্কে বহুদূর"।।

                         -----------------------------

★★তথ্যসূত্রঃ-
1. Ganesa: Unravelling An Enigma---Yuvaraj Krishan. Delhi: Motilal Banarsidass Publishers.

2.Ganesa: The Enchanter of the Three Worlds---- Paul Martin-Dubost, Mumbai: Project for Indian Cultural Studies.

3.. The Cult of Vinayaka---Shanti Lal Nagar. New Delhi: Intellectual Publishing House.

4. Ganesha-Karttikeya----S.Saraswati,  Ashish Khokar (2005).New Delhi: Rupa and Co.

5. Understanding Gaņapati: Insights into the Dynamics of a Cult----Anita Raina, New Delhi: Manohar Publishers.

6.স্কন্দপূরান,শিবমহাপূরান,ব্রম্ভবৈবর্ত পূরান।

7.মহাভারত-কৃষ্ণদ্বেপায়ন বেদব্যাস বিরোচীত,কালীপ্রসন্ন সিংহ অনুদিত।অক্ষয় লাইব্রেরী কলকাতা।। 

The End.

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভারতবর্ষে পর্তুগীজ আগমনের ইতিবৃত্তঃ- একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

প্রাচীনকাল থেকেই বৃহত্তর বঙ্গদেশ( বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ) ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের এক অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। বাঙলার ক্ষেতের অফুরন্ত ফসল এবং তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড়,ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধনসম্পদের লোভে যুগ যুগ ধরে দেশ-বিদেশের বণিকরা ছুটে এসেছে এই দেশে।ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউরোপীয় বণিকদের আনাগোনা শুরু হয় এই বাঙলায়। ইউরোপীয়দের মধ্যে সমুদ্রপথে পর্তুগিজরাই প্রথম বাঙলায়, তথা ভারতীয় উপমহাদেশে এসে পৌঁছায় ও বাংলাসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে। মুঘল সম্রাট আকবরের অনুমতিবলে হুগলীতে তারা পর্তুগিজ বন্দর-নগরী পত্তন করেছিল। সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে হুগলী ছিল বাঙলার অন্যতম প্রধান এক নগরী।তবে এখানে এসে তারা পরবর্তীসময়ে হার্মাদগিরি করার ফলে সম্রাট শাহজাহান সহ পরবর্তী সম্রাটদের বিরাগভাজনের কারন হন তারা।এসব বিভিন্ন কারণে সপ্তদশ শতকের শেষের দিকে পর্তুগিজরা হুগলী ছেড়ে চলে যেতে শুরু করলে সেই স্থান দখল করে ইংরেজ ও ওলন্দাজরা । কিন্তু এখনো একটু খোঁজ করলেই হুগলীর পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায় – হয়ত কোন একটা এলাকার নাম, অথবা কোন একটা...

"জয়নগরের মোয়া-উপাখ্যান"

শীতকাল এলেই বাঙালীর যেটা সবার আগে মাথায় আসে তা হল নলিনগুড়,পিঠেপুলি,আর জয়নগরের মোয়া।এগুলো ছাড়া চলবেই না।আমরা সকলেই এইসব বিভিন্ন খাদ্যের সাথে পরিচিত।আজ এরকমই এক সুস্বাদু মিষ্টান্ন "জয়নগরের মোয়া" -র ইতিবৃত্ত তুলে ধরছি আমার ছোট্ট প্রবন্ধ-পটে।ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। ইতিহাসের সাথে ভূগোলের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।ভূগোল ছাড়া ইতিহাস সম্ভব নয়,সুতরাং ভৌগলিক দিক থেকে জয়নগর মজিলপুর হলো দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ছোট্ট একটা গ্রাম। প্রায় পাঁচশো বছর আগে আদি-গঙ্গা এইখান দিয়ে বয়ে বয়ে মিশে গিয়েছিলো বঙ্গোপসাগরে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর শিষ্যদেরকে নিয়ে নীলাচলে যাবার সময় এখানে থেমে ছিলেন। সাংস্কৃতিক আবহাওয়ায় পরিপুষ্ট এই অঞ্চলটিকে অনেকেই পশ্চিম বাংলার 'দ্বিতীয় নবদ্বীপ' বলেও অভিহিত করে থাকেন। মোটামুটিভাবে ধরা হয়,১৯২৯ সাল নাগাদ এই অঞ্চলের প্রসিদ্ধ দুই ব্যক্তি নৃত্যগোপাল সরকার (বুচকি বাবু) এবং পূর্ণচন্দ্র ঘোষ, দু'জনে মিলে সর্বপ্রথম 'মোয়া' নামক লোভনীয় মিষ্টান্নটির জন্ম দেন। তারপর সেই মোয়ার সুস্বাদ, সুঘ্রাণ আর গুণ ক্রমে ক্রমে সারা পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই, এ...

"কালাপাহাড়"- ইতিহাসে একজন ধ্বংসকারী হিসাবে পরিচিত

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গল্পে একটি বিধ্বংসী মোষের নাম দিয়েছিলেন কালাপাহাড়। কে জানে কেন এমন নামকরণ! মোষ সে কালো, সে ভেঙেচুরে ফেলে—তাতে কালো হতে পারে। কিন্তু কালা তো বধির—যে কানে শুনতে পায় না। তাহলে যার কানে ভালো কথা প্রবেশ করে না—সে-ই ‘কালা’। কখনও কখনও পাহাড় কালো রঙের হয়, বিশাল চেহারার কাউকে আমরা পাহাড়ের সঙ্গে তুলনাও করে থাকি। বিরাট আকারের কালো রঙের মহিষ—কালাপাহাড়? কিন্তু এই কথাটা মনে এলেই মনে পড়ে এটা একজন বিরাট চেহারার দস্যু— যে ধর্ম মানে না— ধর্মস্থান গুঁড়িয়ে ফেলে লুঠতরাজ চালায় আর বড্ড গোঁয়ার গোবিন্দ। পাষাণের মতোই তার কঠিন মন— কারও কথায় কান দেয় না।একজায়গায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন এমন লোকের কথা ভেবেই—‘পিতামহের কীর্তির প্রতি কালাপাহাড়ি করা।’ তাহলে বোঝাই যাচ্ছে যে,লোকটা মোটেই সুবিধের ছিল না— সব কিছু ভেঙেচুরে নষ্ট করে ফেলাতেই যার প্রবল আনন্দ।তবে এর পিছনেও নির্দিষ্ট কারণ ছিল,ছিল হিন্দুধর্মের গোঁড়ামি,রক্ষণশীলতা,অস্পৃশ্যতা। তবে পরিচয়য়ের দিকে যাওয়া যাক এবার। কালাপাহাড় (১৫৩৪-১৫৮০ ) ছিলেন কররানী রাজবংশর এক দুর্ধর্ষ সেনাপতি। তার বাড়ি ছিল অধুনা বাংল...